Header Ads

Seo Services

পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম মহাকাশযান ভয়েজার-১

১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়  ভয়েজার-১.
সেকেন্ডে ১৭ মাইল বেগে ছুটে চলা ভয়েজার-১ ১৯৭৯ সালের ৫ ই মার্চ বৃহস্পতি গ্রহের কাছাকাছি চলে যায় আর আমারা জানতে পারি বৃহস্পতি গ্রহের রিং সিস্টেম, ৩৫০ বছর ধরে চলা ঘূর্ণিঝড় "গ্রেট রেড স্পট", বৃহস্পতির চাঁদ আইও-র জীবন্ত আগ্নেয়গিরি সহ আরো অনেক বিষয় সম্বন্ধে। ভয়েজার ১ বৃহস্পতি গ্রহের প্রায় ১৯ হাজার ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল।

১৯৮০ সালের ১২ নভেম্বর ভয়েজার-১ শনিগ্রহের কাছে পৌঁছে। আর তখন শনির বলয়ের প্রায় কয়েক হাজার হাই রেজুলেশন ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে ভয়েজার-১

মূলত এইটুকু ই ছিল ভয়েজার ১ এর মূল মিশন । কিন্তু এরপর শুরু হলো ভয়েজারের নতুন অধ্যায়। শনি গ্রহের আকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৌরজগত অতিক্রম করার মতো গতিশক্তি লাভ করে ভয়েজার-১। আর ঘন্টায় ৬২,০০০ কি.মি বেগে ছুটতে থাকে অজানা গন্তব্যের দিকে।

১৯৯০ সালের, ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ভয়েজার-১ যখন আমাদের সৌরজগত ছেড়ে আরো বাইরে চলে যাওয়ার পথে তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগান নাসাকে অনুরোধ করলেন, ভয়েজার ১ দিয়ে পৃথিবীর শেষ একটি ছবি তোলার জন্য। কারন এরপর থেকে ভয়েজার-১ এর ক্যামেরা দিয়ে পৃথিবীকে আর দেখা যাবে না। তবে একটা সমস্যা ছিল ঐ সময় পৃথিবীর দিকে ক্যামেরা ঘোরানো হলে সূর্যের রশ্মির জন্য ভয়েজার-১ এর উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাটির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেগান আর নাসার যুক্তিতর্ক শেষে নাসা ছবি তোলতে একমত হয়। আর তখন ই পৃথিবী থেকে ৪ বিলিয়ন মাইল দূর থেকে পৃথিবীর একটি ছবি তোলা হয়। ছোট্ট একটি বিন্দুর মতো দেখতে এটি ই ছিল ভয়েজার ১ দিয়ে তোলা পৃথিবীর শেষ ছবি। ( ছবিটি কমেন্ট বক্সে দেওয়া আছে )

অবশেষে ২০১২ সালের আগস্ট মাসে আমাদের সৌরজগত অতিক্রম করে ইন্টারস্টেলার স্পেসে প্রবেশ করে ভয়েজার-১

ইন্টারস্টেলার স্পেস হচ্ছে দুটি তারার মধ্যবর্তী দূরত্ব যেখানে কোনো গ্রহ-উপগ্রহ বা অন্যান্য অনেক কিছুর অস্তিত্ব নেই। এর প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশই অন্ধকার।

ভয়েজার-১ এর সাথে পাঠানো হয়েছে মানবসভ্যতার ইতিহাস যেখানে রয়েছে DNA এর ছবি, প্রাণীর শব্দ, গান এবং ৫৪ টি ভাষা সহ আরো অনেক তথ্য । তবে ৫৪ টি ভাষার মধ্যে আমাদের বাংলা ভাষাও রয়েছে। বাংলায় রেকর্ড করা বাক্যটি হলো "নমস্কার, বিশ্বে শান্তি হোক"।

সৌরজগতে পৃথিবীর অবস্থান কোথায় সেই বিষয়ে উল্লেখ আছে। বিজ্ঞানীদের আশা- মহাবিশ্বের কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী যদি এই গোল্ডেন রেকর্ড পেয়ে থাকে, তবে তারা আমাদের পৃথিবী এবং আমাদের সম্পর্কে জানতে পারবে। তারা যাতে এটি চালাতে পারে তার সমস্ত কিছুর নির্দেশনা এই ডিস্কে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের নেতৃত্বে এই কাজটি করা হয়।

আনুমানিক আগামী ৩০০ বছরের মধ্যে ভয়েজার ১ ওর্ট ক্লাউডে (Oort Cloud) প্রবেশ করবে। ওর্ট ক্লাউড অতিক্রম করতে প্রায় ৩,০০০ বছর লাগবে। এই ওর্ট ক্লাউড হচ্ছে সূর্যের চারদিক থেকে প্রায় এক লক্ষ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে অবস্থান করা ধূমকেতু এবং গ্রহাণুপুঞ্জের বেষ্টনী। উল্লেখ্য, অ্যাস্ট্রোনোমিকাল ইউনিট হলো পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের সমান পথ, যা প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।

বর্তমানে ভয়েজার-১ এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে ১৪.৫ বিলিয়ন মাইল এর ও বেশি দূরে। আজ প্রায় ৪৫ বছর পর ভয়েজার-১ সময়ের সাথে অনেক ক্ষমতাই হারিছে আর কয়েকটা বছর পর আমরা ও হারিয়ে ফেলবো ভয়েজার-১ কে, সেই দিনটি ও বেশি দূরে নয় আগামী ২০২৫ সালেই ভয়েজার-১ এর সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে পৃথিবী বাসীর। তবে ভয়েজার-১ এইভাবেই তার নিজ গতিতে চলতে থাকবে অসীম সময় ধরে আর সাথে বহন করবে পৃথিবী বাসীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি । হয়তো কোন একদিন দূরের কোন এলিয়েন আমাদের সম্পর্কে জানতে পারবে কিন্তু ঐ তথ্য আমাদের কাছৈ পৌঁছাবে না কারন ঐ সময় ভয়েজার-১ এর দূরত্ব থাকবে পৃথিবী থেকে **** ************************............. মাইল দূরে।

আর এইভাবেই বিদায় নিবে মানব ইতিহাসের স্মরণীয় আবিষ্কার ভয়েজার-১ 💔

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.